August 9, 2026, 8:43 am
গৌতম বুদ্ধ পাল:
৭ জুন ২০২১ বিশ্ব নিরাপদ খাদ্য দিবস। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে ‘সেফ ফুড নাউ ফর এ হেলদি টুমোরো’ এবং “ফুড সেফটি ইজ এভরিওয়ানস বিজনেস”। দিবসটি উপলক্ষ্যে নিরাপদ খাদ্য এবং প্রাসঙ্গিক বিষয়ে একটি ওয়েবিনার এর আয়োজন করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ফারগো । ফারগো নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার নিয়ে কাজ করে।
সোমবার (৭ জুন) সন্ধ্যা ৮.০০ টায় অনলাইনে অনুষ্টিত ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় Changing the Narrative: Food Safety in Bangladesh বিষয়ে ফারগো এর সিইও কিনোট বক্তব্য উপস্থাপন করেন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য ও যুগ্ন সচিব শাহনেওয়াজ দিলরুবা খান, আন্তর্জাতিক এনজিও সলিডারডাড নেটওয়ার্ক এর কান্ট্রি ম্যানেজার সেলিম রেজা হাসান, ন্যাশনাল কনজিউমার রাইটস্ প্রটেকশন অধিদপ্তর এর ডিরেক্টর এবং উপসচিব মনজুর শাহরিয়ার, জনস্বাস্থ্য যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ডা. অনুপম হোসাইন, নিউট্রিশনিষ্ট ফাহমিদা হাশেম এবং নিউরো সার্জন এসোসিয়েট প্রফেসর ডা. ফজলে এলাহী মিলাদ।
আলোচনার শুরুতে ফারগো ফুডের সিইও বাংলাদেশের খাদ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন।
তিনি বলেন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও গ্রহণ স্বল্প এবং দীর্ঘমেয়াদে জনগণ, অর্থনীতি তথা গোটা পৃথিবীর জন্য সুফল বয়ে আনে। তিনি খাদ্যে ভেজাল ও প্যাথোজেন সংক্রান্ত নানা বিষয় ও পুষ্টি সংকট বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন খাদ্যে পেস্টিসাইড সহ নানা ধরনের বিষ ও ক্যামিকেল যুক্ত করা হয় যা খাবারকে ঝুঁকিপূর্ণ করছে । ক্যান্সার সহ নানা ধরণের মরণঘাতি রোগ সৃষ্টি করছে। পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুরা মারাত্নক স্বাস্থ্য সমস্যায় পড়ছে। অন্যদিকে খাবারে প্যাথোজেন সনাক্ত করার কিট সংকটের কারণে খাবার হয়ে পড়ছে অনিরাপদ। প্রতিবছর ৩ কোটি মানুষ খাবার সংক্রান্ত অসুস্থতায় ভোগে। নগরায়নের কারণে কৃষি জমি কমছে আবার পানি দূষণ বাড়ছে।
শিল্পোৎপাদিত ট্রান্সফ্যাট খাদ্যের একটি বিষাক্ত উপাদান যা হৃদরোগজনিত অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ায়। প্রতিবছর সারা পৃথিবীতে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ ট্রান্সফ্যাটঘটিত হৃদরোগে মৃত্যুবরণ করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০২৩ সালের মধ্যে বিশ্বের খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খল থেকে ট্রান্সফ্যাট নির্মূলের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য শাহনেওয়াজ দিলরুবা খান বলেন নিরাপদ খাদ্য কতৃপক্ষ একটি নতুন সংস্থা। তারপরও আমরা ব্যপক কার্যক্রম পরিচালনা করছি। ‘খাদ্যদ্রব্যে ট্রান্সফ্যাটি এসিড নিয়ন্ত্রণ প্রবিধানমালা, ২০২১’ তৈরি করা হচ্ছে।
সলিডারিডাড এর কান্ট্রি ম্যানেজার সেলিম রেজা হাসান বলেন, একটি সুস্থ প্রজন্ম গড়ে তুলতে নিরাপদ খাদ্যের বিকল্প নেই। খাদ্যে ট্রান্সফ্যাট নির্মূলের মাধ্যমে অসংখ্য প্রাণ বাঁচানো সম্ভব এবং যা একইসাথে সরকারের জন্য একটি ব্যয়সাশ্রয়ী পদক্ষেপ। দ্রুততম সময়ের মধ্যে খাদ্যশৃঙ্খল থেকে ট্রান্সফ্যাট নির্মূল করে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে।
ন্যাশনাল কনজিউমার রাইটস্ প্রটেকশনের ডেপুটি ডিরেক্টর মনজুর শাহরিয়ার বলেন, ‘কর্মক্ষম একটি জাতি গঠনে সকলের জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করাই হোক বিশ্ব নিরাপদ খাদ্য দিবসে আমাদের সকলের অঙ্গীকার।’
তিনি বলেন, ‘জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবারের কোনো বিকল্প নেই। অনিরাপদ খাদ্য গ্রহণে ক্যান্সার, কিডনিরোগ, বিকলাঙ্গতাসহ মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির সৃষ্টি হয়। এজন্য সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার সমন্বয়ে আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে জণসচেতনতামূলক কার্যক্রম আরো বেগবান করা অত্যন্ত জরুরি।’
নিউট্রিশনিষ্ট ফাহমিদা হাশেম বলেন, ‘দেশের সকল মানুষের জন্য খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি নিরপাদ খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে আমাদের নিরলসভাবে কাজ করে যেতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘খাদ্য উৎপাদন হতে ভোগ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নিরাপদ খাদ্য ও তার পুষ্টিমান বজায় রাখতে হবে। দেশের প্রতিটি মানুষ খাদ্য নিরাপদতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তাই এক্ষেত্রে সকল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে একযোগে কাজ করতে হবে।’
ভার্চুয়াল এ আলোচনা সভাটি সঞ্চালনা করেন ফারগো ফুডের সিইও হামিদুল এইচ খান। তিনি জানান শীঘ্রই খাদ্য নিরাপদতা বিষয়ে পত্রিকায় একটি ক্রোড়পত্র বের করা হবে।